Thursday, January 11, 2018

বিশ্ব ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ

বিশ্ব ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ


**বিশ্ব ঐতিহ্য ৩টি
           ১. ষাটগম্বুজ মসজিদ(৩২১ নং....১৯৮৫ সাল)
           ২. পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার (৩২২নং........১৯৮৫ সাল)
          ৩. সুন্দরবন (৭৯৮নং.........১৯৯৭ সাল)

**ভৌগলিক নির্দেশক পন্য 
 ১. জামদানি শাড়ি
২. বাংলাদেশ ইলিশ
৩. চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম
৪. বিজয়পুরের সাদামাটি
৫. দিনাজপুরের কাটারীভোগ চাল
৬. রাজশাহীর সিল্ক
৭. নাটোরের কাঁচা গোল্লা
৮. রংপুরের শতরঞ্জি
৯. বগুড়ার দই
১০. কুমিল্লার রসমালাই
১১. টাঙ্গাইল শাড়ি
১২. সুন্দরবনের মধু
১৩. বাগদা চিংড়ি
১৪. কালিজিরা চাল
১৫. ফজলি আম
১৬. শেরপুরের তুলশীমালা ধান
১৭. মুক্তাগাছার মণ্ডা
১৮. অষ্টগ্রামের পনির
১৯. গোপালগঞ্জের রসগোল্লা
২০. জামালপুরের নকশিকাঁথা
২১. হাজরাপুরী লিচু
২২. মধুপুরের আনারস
২৩. ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই
২৪. নরসিংদীর লটকন
২৫. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী
নোট: জিআই তালিকার সংখ্যা সময়ের সাথে বাড়ছে, তাই সর্বশেষ সরকারি DPDT তালিকায় সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

**অধরা সাংস্কৃতিক  ঐতিহ্য(মোট ৪৭০টি, বাংলাদেশের ৪টি)
        ১. বাউলগান(২০০৮)
        ২. জামদানি বয়নশিল্প(২০১৩)
        ৩. মঙ্গল শোভাযাত্রা(২০১৬)
        ৪. শীতল পাটির বুনন পদ্ধতি(২০১৭)

**ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ..মোট ৪২৭টি,বাংলাদেশের ১টি
      ১. জাতির পিতার ৭ই মার্চের ভাষণ.

**রামসার সাইট ২টি
     ১. সুন্দরবন(২১মে, ১৯৯২)
     ২. টাঙ্গুয়ার হাওড় (১০ জুলাই ২০০০)





মেঘনার ঢল,হুমায়ুন কবির

মেঘনার ঢল

হুমায়ুন কবির

শোন্ মা আমিনা, রেখে দে রে কাজ ত্বরা করি মাঠে চল,
এল মেঘনায় জোয়ারের বেলা এখনি নামিবে ঢল।
নদীর কিনার ঘন ঘাসে ভরা
মাঠ থেকে গরু নিয়ে আয় ত্বরা
করিস না দেরি- আসিয়া পড়িবে সহসা অথই জল
মাঠ থেকে গরু নিয়ে আয় ত্বরা মেঘনায় নামে ঢল।

এখনো যে মেয়ে আসে নাই ফিরে- দুপুর যে বয়ে যায়।
ভরা জোয়ারের মেঘনার জল কূলে কূলে উছলায়।
নদীর কিনার জলে একাকার,
যেদিকে তাকাই অথই পাথার,
দেখতো গোহালে গরুগুলি রেখে গিয়েছে কি ও পাড়ায়?
এখনো ফিরিয়া আসে নাই সে কি? দুপুর যে বয়ে যায়।


ভরবেলা গেলো, ভাটা পড়ে আসে, আঁধার জমিছে আসি,
এখনো তবুও এলো না ফিরিয়া আমিনা সর্বনাশী।
দেখ্ দেখ্ দূরে মাঝ-দরিয়ায়,
কাল চুল যেন ঐ দেখা যায়-
কাহার শাড়ির আঁচল-আভাস সহসা উঠিছে ভাসি?
আমিনারে মোর নিল কি টানিয়া মেঘনা সর্বনাশী।

শিক্ষাগুরুর মর্যাদা


শিক্ষাগুরুর মর্যাদা

কাজী কাদের নেওয়াজ


বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।
শিক্ষক মৌলভীভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।
দিল্লীপতির পুত্রের করে
লইয়াছে পানি চরণের পরে,
স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।
হঠাৎ কি ভাবি উঠি
কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,
ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল,
বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।
যায় যাবে প্রাণ তাহে,
প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।

তার পরদিন প্রাতে
বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
খাস কামরাতে যবে
শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ”শুনুন জনাব তবে,
পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,
নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা”
শিক্ষক কন-”জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,
কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?”
বাদশাহ্ কহেন, ”সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।
নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।”

উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে
কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-
”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”


কারাগারের রোজনামচা



কারাগারের রোজনামচা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত আত্মজীবনী মূলক দ্বিতীয় গ্রন্থকারাগারের রোজনামচা।২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি খুঁজে পান।বইটি ২০১৭ সালের ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্মবার্ষিকী জাতীয় শিশু দিবসে ঐতিহাসিক বাংলাএকাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়।পাণ্ডুলিপি আনুযায়ী বঙ্গবন্ধু এর নাম দিয়েছিলেনথালাবাটি কম্বল/জেলখানার সম্বল।বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা বইটির নামকরণ করেনকারাগারের রোজনামচাগ্রন্থটিতে ১৯৬৬-১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর কারাবাসের চিত্র তুলেধরেছেন।গ্রন্থটির প্রচ্ছদ শিল্পী তারিক সুজাত।বঙ্গবন্ধু এই গ্রন্থটিতে তাঁর জেল জীবনের পাশাপাশি জেল যন্ত্রনা,কয়েদীদের অজানা কথা, অপরাধীদের কথা,কেন তারা এই অপরাধে লিপ্তহলো তার কথা,তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি,আওয়ামীলীগ নেতাদের দুঃখ দুর্দশা,সংবাদ মাধ্যমের অবস্থা,শাসকগোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতন প্রভৃতি তুলে ধরেছেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরি ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড.ফকরুল আলম স্যার বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং তা বাংলা একাডেমী থেকেপ্রিজন ডায়েরীনামে প্রকাশিত হয়।বইটির ভূমিকা লিখেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বইটির গ্রন্থস্বত্ব হচ্ছেজাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট