Showing posts with label বাংলা কবিতা. Show all posts
Showing posts with label বাংলা কবিতা. Show all posts

Wednesday, June 24, 2026

বনলতা সেন

বনলতা সেন 

জীবনানন্দ দাশ 

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে

অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধুসর জগতে

সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;

আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,

আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।

 

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,

মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রেরপর

হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা

সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,

তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‌‌এতদিন কোথায় ছিলেন?

পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

 

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন

সন্ধা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;

পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন

তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;

সব পাখি ঘরে আসে-সব নদী-ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;

থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।


Friday, June 19, 2026

চন্দ্রমুখী



চন্দ্রমুখী

এক গাঁ-এর এক কৃষকের মেয়ে, কুড়ায় বনের কাঠ
বাপে তাহার বর্গা জমিতে লাগাইয়াছে পাট।
চন্দ্রমুখী নামটা তাহার, চন্দ্রের মত রূপ
পাটের ক্ষেতে যাইয়া একদিন বাপেরে খুঁজিছে খুব
বাপে তাহার কাস্তে লইয়া কাটিতেছিল আগাছা
নিকটে গিয়া কহে তাহারে “বনেতে যাইব বাছা”
জননী তাহার ছিলনা বাঁচিয়া এই ভব সংসারে
একারনেই দেখিতে হইতো আপন সংসার তারে।
বলিয়া বাপেরে চন্দ্রমুখী বনেতে গেল চলিয়া
 “সিকার ভিতর ভাত রয়েছে” বাপেরে গেল বলিয়া।
যাইয়া বনেতে, আপন মনেতে বনের কাঠ কুড়াইছে
মাথার উপর খরিশ গোখরা বাতাশেতে দুলিছে।
দুলিতেছিল মাথার উপরে চন্দ্র দেখেনি তারে,
না দেখিয়া চন্দ্র তাহারে দা’ দিয়া আঘাত করে।
চক্র তুলিয়া খরিশ গোখরা, রাঙাইয়া দুটি চোখ
অভাগী সেই চন্দ্রমুখীর কপালে মারিলো ঠোক।
জনশূন্য বনের মাঝে লুটাইয়া পড়িল মাটিতে
পাটের ক্ষেত দিয়া বাজান ফিরিল সন্ধ্যাতে।
বাড়িতে আসিয়া খুঁজিয়া যখন পাইলোনা আর তারে
বনের দিকে রওনা হলো, আরও খুঁজিল দ্বারে দ্বারে।
বনেতে গিয়া দেখিল চন্দ্র ঘুমায়ে আছে একা 
সর্প বিষেতে চন্দ্রমুখ তার যায়না চেয়ে দেখা।
বনের পাখিরা ডাকিছে তখন কিচিরমিচির করে
 ‘ডাকিসনা তোরা, চন্দ্র ঘুমায়” বলিছে উচ্চ স্বরে।
দুচোখের জল করে টলমল বাহু বেয়ে পড়িছে
রাত্রি বাড়িছে চন্দ্রের বাপ, তার জাগার আসায় রয়েছে।







বীর




 বীর

দেশের জন্য বায়ান্নোতে একটি তরুন দল

কোন স্বার্থে প্রাণটা দিল? আজ আমাকে বল।

পাক-বাহিনীর অত্যাচারে প্রাণটা দিল যারা

শহীদ হয়ে বেঁচে আছে মোদের মাঝে তাঁরা।

রফিক, শফিক, সালাম, বরকত প্রমুখ মহানজনে

পাক শাষকের হাতটা থেকে বাংলাকে কেড়ে আনে।

বুকের রক্তের বিনিময়ে, বিলিয়ে দিয়ে প্রাণ

বিশ্বের বুকে রেখেছে তাঁরা বাংলা ভাষার মান।

টাকার সাথেও হয়না কভু এদের তুলনা

বীর বাঙালির এই অবদান কখনই ভূলনা।

লাল সবুজের ঐ পতাকা পূবাল হাওয়ায় দোলে

গান গেযে যায় বাংলা ভাষায়, বীরের কথা বলে।



Md. Parvej Ahmmed



   

Thursday, January 11, 2018

মেঘনার ঢল,হুমায়ুন কবির

মেঘনার ঢল

হুমায়ুন কবির

শোন্ মা আমিনা, রেখে দে রে কাজ ত্বরা করি মাঠে চল,
এল মেঘনায় জোয়ারের বেলা এখনি নামিবে ঢল।
নদীর কিনার ঘন ঘাসে ভরা
মাঠ থেকে গরু নিয়ে আয় ত্বরা
করিস না দেরি- আসিয়া পড়িবে সহসা অথই জল
মাঠ থেকে গরু নিয়ে আয় ত্বরা মেঘনায় নামে ঢল।

এখনো যে মেয়ে আসে নাই ফিরে- দুপুর যে বয়ে যায়।
ভরা জোয়ারের মেঘনার জল কূলে কূলে উছলায়।
নদীর কিনার জলে একাকার,
যেদিকে তাকাই অথই পাথার,
দেখতো গোহালে গরুগুলি রেখে গিয়েছে কি ও পাড়ায়?
এখনো ফিরিয়া আসে নাই সে কি? দুপুর যে বয়ে যায়।


ভরবেলা গেলো, ভাটা পড়ে আসে, আঁধার জমিছে আসি,
এখনো তবুও এলো না ফিরিয়া আমিনা সর্বনাশী।
দেখ্ দেখ্ দূরে মাঝ-দরিয়ায়,
কাল চুল যেন ঐ দেখা যায়-
কাহার শাড়ির আঁচল-আভাস সহসা উঠিছে ভাসি?
আমিনারে মোর নিল কি টানিয়া মেঘনা সর্বনাশী।

শিক্ষাগুরুর মর্যাদা


শিক্ষাগুরুর মর্যাদা

কাজী কাদের নেওয়াজ


বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।
শিক্ষক মৌলভীভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।
দিল্লীপতির পুত্রের করে
লইয়াছে পানি চরণের পরে,
স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।
হঠাৎ কি ভাবি উঠি
কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,
ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল,
বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।
যায় যাবে প্রাণ তাহে,
প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।

তার পরদিন প্রাতে
বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
খাস কামরাতে যবে
শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ”শুনুন জনাব তবে,
পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,
নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা”
শিক্ষক কন-”জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,
কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?”
বাদশাহ্ কহেন, ”সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।
নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।”

উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে
কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-
”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”


Friday, December 12, 2014

উত্তম ও অধম (শেখ সা’দী, অনুবাদ : সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)

উত্তম ও অধম

 (শেখ সা’দী, অনুবাদ : সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)

কুকুর আসিয়া এমন কামড়
দিল পথিকের পায়,
কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে
বিষ লেগে গেল তায়।

ঘরে ফিরে এসে রাত্রে বেচারা
বিষম ব্যথায় জাগে,
মেয়েটি তাহার তারি সাথে হায়
জাগে শিয়রের আগে।

বাপেরে সে বলে র্ভৎসনা ছলে
কপালে রাখিয়া হাত,
তুমি কেন বাবা, ছেড়ে দিলে তারে
তোমার কি নাই দাতঁ?

কষ্টে হাসিয়া আর্ত কহিল
“তুই রে হাসালি মোরে,
দাঁত আছে বলে কুকুরের পায়ে
দংশি কেমন করে?”

কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ানো কিরে
মানুষের শোভা পায়?