Friday, March 9, 2018

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ


রোহিঙ্গা বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা পরিচিতি
রোহিঙ্গা একটি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী যারা নিজ দেশেও পরবাসী রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায় আরাকানী মুসলিমরা সেখানে হাজার বছর ধরে বসবাস করলেও বাংলাভাষী মুসলিম হওয়ার কারনে তারা মিয়ানমারের সরকার নাগরিকদের কাছে বিদেশী,বাঙ্গালি বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে পরিচিত জাতি সংঘ রোহিঙ্গাদের  "বিশ্বের সবচেয়ে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী " হিসেবে অভিহিত করেছেন
কারও কারও মতে রোসাঙ্গ থেকে রোহিঙ্গা শব্দটির উদ্ভবনবম-দশম শতকে আরাকান রাজ্য রোহান কিংবা রোহাঙ নামে পরিচিত ছিলরোহিঙ্গা শব্দটি রোসাঙ্গ শব্দটি থেকে এসেছে সেই অঞ্চলের অধিবাসী হিসেবেই রোহিঙ্গা শব্দের উদ্ভব
কারও কারও মতে, রোহিঙ্গা শব্দটি রেঙ্গুন শব্দের পরিবর্তিত রুপসেই মতে রেঙ্গুনে বসবাসকারী বার্মিজ সম্প্রদায় রোহিঙ্গা নামে পরিচিত
কারও কারও মতে আফগানিস্তানের রোহিঙ্গা জেলা থেকে আগত হওয়ার কারনে এই নামকরনতাদের মতে, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বীন বখতিয়ার খলজীসহ বাংলার মুসলমান বিজেতা শাসকগোষ্ঠী ইসলাম প্রচার প্রসারের জন্য আফগানিস্তানের রোহিঙ্গা জেলা থেকে কিছু লোককে ধর্ম প্রচারের জন্য আরাকানে পাঠিয়েছিলেন সেই মতে তাদের নামানুসারে নাম হয় রোহিঙ্গা

ফিলিস্তিন সংকট এবং ইসরাইলী আগ্রাসন


ফিলিস্তিন সংকট এবং ইসরাইলী আগ্রাসন
ফিলিস্তিনের ইতিহাস :
ফিলিস্তিন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উটলে ফিলিস্তিন এক অন্ধকার অরণ্যে পা বাড়ায় যা থেকে তারা আজও বেরিয়ে আসতে পারেনি ফিলিস্তিন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শুরুতে ইংরেজদের বিপক্ষে ছিল তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনকে ব্রিটেনের পক্ষ নিতে অনুরোধ জানান ব্রিটেন ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার আশ্বাস দিলে ফিলিস্তিন ব্রিটেনের সাহায্যে এগিয়ে আসে

বেলফোর ঘোষণা : ১৯১৭

ফিলিস্তিন সমস্যার বীজ বপন করা হয় ১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষনার মধ্য দিয়েবেলফোর ঘোষণা হলো ইউরোপের জায়োনিস্ট লবির নেতা ওয়াল্টার রথশিল্ডকে কে লেখা ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী বেলফোরের চিঠি ওই চিঠিতে ফিলিস্তিনে ইহুদীদের জন্য আলাদা আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিলো এটি ইতিহাসে বেলফোর ঘোষণা নামে প্রসিদ্ধ শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এই ঘোষণা দুটি ভিন্ন ভিন্ন মহলের কাছে একই সাথে নন্দিত এবং নিন্দিত হয়ে আসছে২০১৭ সালে বেলফোর ঘোষনার ১০০ বছর পূর্ণ হয়।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বাংলাদেশ


যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বাংলাদেশ

উপস্থাপনা
     যুদ্ধাপরাধ মানবতাবিরোধী এক ঘৃণ্য অপরাধ।স্বাধীনতাকামী জাতির উপর বর্বর নির্যাতন ও তাদের স্বাধীনতায় বাধাগ্রস্থ করাই তাদের প্রধান কাজ।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধাপরাধ এক স্পর্শকাতর বিষয়। স্বাধীনতার ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও আমার সম্পূর্ণরূপে এ দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারিনি।তবে ২০০৯ সালের পর থেকে প্রধান প্রধান যুদ্ধাপরাধীদের মুত্যুদণ্ড ও অন্যান্যদের বিচারের আওতায় আনার ফলে বর্তমানে এদেশের মানুষ কিছুটা হলেও বোঝামুকক্ত হতে পেরেছে।
যুদ্ধাপরাধের সঙ্গা
     যুদ্ধাপরাধ বলতে কোন দেশ, জাতি সামরিক বা বেসামরিক ব্যক্তি কর্তৃক যুদ্ধের প্রথা বা আন্তর্জাতিক নীতিমালা লঙ্ঘন করাকে বোঝায়।
     হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত  ‘দ্য বুক অব কমিউনিজম:ক্রাইম,টেরর,রিপ্রেশন’ গ্রন্থে যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে বলা হয়েছে,
            “যুদ্ধের আইন বা প্রথা লঙ্ঘন করা বলতে হত্যা, নির্যাতন বা সাধারন নাগরিকদের নির্বাসিত করে অধিকৃত জনপদে ক্রীতদাস শ্রম ক্যাম্পে পরিণত করা,আটককৃতদের হত্যা ও নির্যাতন, অপহৃতদের হত্যা সামরিক বা বেসামরিক প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই দায়িত্ব-জ্ঞানহীন নগর,শহর ও গ্রামাঞ্চলকে ধ্বংশস্তুপে পরিণত করাকে উল্লেখ করা হয়েছে।”
     চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের ১৪৭ ধারায় যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে বলা হয়,
            “ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা,নির্যাতন বা অমানবিক ব্যবহার এবং কারো শরীর বা স্বাস্থ্যে গুরুতর আঘাত করা বা তার দুর্দশার কারণ তৈরি,অন্যায় ভাবে কাউকে বিতাড়ন বা স্থানান্তর করা বা আটক কারা, শত্রুবাহিনীর সেবাদানে বাধ্য করা,যথাযথ ও নিয়মতান্ত্রিক বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে কাউকে জিম্মি করা, বিপুল পরিমানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ও সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, সামরিক প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বে আইনি ও নীতিবিরুদ্ধ ও ওপরের যেকোন এক বা একাধিক কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
     সুতরাং যুদ্ধাপরাধ বলতে আমরা বুঝি,
                A war crime is an act that constitutes a serious violation of the laws of war that gives rise to the individual criminal responsibility.

বঙ্গবন্ধু-রচনা


বঙ্গবন্ধু
উপস্থাপনা

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় বাংলাদেশের মানুষ ও তাদের কল্যানের জন্য ব্যয় করেছেন।বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে সংঘবদ্ধ করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।প্রত্যেক বাংলাদেশীর জন্য জাতির পিতার জীবনী সম্পর্কে জ্ঞঅনার্জন করা অপরিহার্য।
জন্ম ও পরিচয়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।গোপালগঞ্জ বর্তমানে একটি জেলা।তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফুর রহমান এবং তাঁর দাদার নাম শেখ আবদুল হামিদ।তাঁর মাতার নাম সাহেরা খাতুন এবং নানার নাম আবদুল মজিদ।তাঁর আকিকার সময় তাঁর নানা আবদুল মজিদ বঙ্গবন্ধুর নাম রেখেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং বলেছিলেন এ নাম জগৎ জোড়া খ্যাত হবে।পিতা-মাতা তাকে আদর করে ‘খোকা’ বলে ডাকতেন।এবং ভাইবোন ও গ্রামবাসির নিকট তিনি ‘মিয়াভাই’ বলে পরিচিত ছিলেন।বর্তমানে ১৭ই মার্চ সারাদেশে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়।
শৈশব
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈমব সম্পর্কে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন তাঁর ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থে বলেন,
      “আমার আব্বার শৈশব কেটেছিল টুঙ্গিপাড়ার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে,মেঠো পথের ধুলোবালি মেখে।বর্ষার কাদাপানিতে ভিজে।”
বঙ্গ বন্ধু বলেন,
      “ছোট সময়ে আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম।খেলাধুলা করতাম, গান গাইতাম এবং খুব ভাল ব্রতচারী করতে পারতাম।” –(অসমাপ্ত আত্মজীবনী)

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র


রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র
বাগেরহাট জেলার রামপালে নির্মিতব্য কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা পশুর নদীর তীরে নির্মিত হবে।রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন থেকে ১৪ কি.মি দূরে এবং বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান থেকে ৭০ কি.মি.দূরেবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মানে প্রধান দেশ হিসেবে সহায়তা করবে ভারত।বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মানের জন্য ভারতের হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড এর সাথে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের একটি চুক্তি হয়।১২০০০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিতব্য এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে বাংলাদেশের পিডিবি ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার লিমিটেড একত্রে কাজ করবে।দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কোম্পানি ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেণ্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি’।রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১৩২০ মেগাওয়াট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে ২০১৯ সালে। রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য ইউনেস্কো বাংলাদেশকে ১৪টি শর্ত দিয়েছে।পশুর নদীর তীর ঘেঁষে এই প্রকল্পে ১৮৩৪ একর জমির সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১০ সালে জমি অধিগ্রহণ করে বালু ভরাটের মাধ্যমে নির্মানের কাজ শুরু করা হয়েছে।বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি  নির্মিত হলে বাগেরহাট তথা দক্ষিণ অঞ্চলের দীর্ঘ দিনের বিদ্যুৎ-বিভ্রাট সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু-১


বঙ্গবন্ধু-১
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রাণলায়ের নিয়ন্ত্রানাধীন দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।বিটিআরসি ও স্পারসো এটি চালু করাবে।এটি থৈরিতে কারিগরি সহায়তিা দিয়েছে ফ্রান্সের থেলিস আ্যালেনিয়া স্পেস এবং এটি ফ্রান্সেই তৈরি হচ্ছে।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই স্যাটেলাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপন করা হবে।তবে এর স্টেশন হবে গাজীচুরের রাজেন্দ্রপুরে ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায়।এ উপলক্ষে গাজীপুরে ৫ একর জায়গা জুড়ে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কো.লি. এর পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপন করা হলে বাংলাদেশ হবে ৫৭ তম স্যাটেলাইট থাকা দেশে।এতে মহাকাশে অরবিটাল স্লট স্থাপনে সহায়তা করছে রাশিয়া এবং এর কক্ষপথ হবে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের ৪০ টি ট্রান্সপণ্ডার থাকবে যার ২০টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে বাকী বিশটি প্রতিবেশী ৬ টি দেশে ভাড়া দেওয়া যাবে।প্রথমে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং পরে ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ উৎক্ষেপনের কথা থাকলেও এটি ২০১৮ সালের এপ্রিলে উৎক্ষেপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উৎক্ষেপনের পরবর্তী এক বছর এর তদারকি করবে নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান।এটি আগামী ১৮ বছর মহাকাশে থেকে সেবা দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

জাতীয় গণহত্যা দিবস


জাতীয় গণহত্যা দিবস

গণহত্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ  Genocide. ১৯৪৪ সালে শব্দটি প্রথমব্যবহৃত হয়।গণহত্যা বলতে সধারণত কোন দেশ,জাতি, গোষ্ঠী অথবা ভিন্ন মতাদর্শীদের খুন বা মানসিক বা শারিরীক নির্য়তনকে বোঝায়।১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তির আন্দোলনকে শ্বাসরোধ করতে ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ রাতে এদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবহিনী।অপরেশন সার্চ লাইটের নামে শুধু ঢাকাতেই ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ জনতা সহ ৫০ হাজারের অকিক লোককে হত্যা করে ঐ এক রাতেই।একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের স্মরণে ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব ১১ মার্চ ২০১৭ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।জাতীয় সংসদে স্বীকৃতির পর ২০ মার্চ ২০১৭ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মার্চ দিনটি গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। অনুমোদনের পর ২১মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পরিপত্র জারির মাধ্যমে ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত দিবস হিসেবে ২৫ মার্চ তারিখকে ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।এর ফলে এখন থেকে প্রতি বছর ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পারিত হবে।

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি


পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি
৩ এপ্রিল ২০১৬ মধ্যে আমেরিকার দেশ পানামার আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকা থেকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অর্থ পচারের বিষয়ে ১ কোটি ১৫ লক্ষ নথি ফাঁস হয়।কর ফাঁকি দিয়ে বিশ্বের ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের অর্থ পাচারের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় ঐসব নথিতে।এত বিশ্বের ২০০টি দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব,৭২ জন সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান,কয়েকশ রাজনীতিবীদ সহ অসংখ্য প্রভাবশালী লোকের কর ফাঁকি দিয়ে নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার গোমর ফাঁস হয়ে যায়।এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় তথ্য ফাঁসের এ ঘটনাটি ‘পানামা পেপারস কেলেঙ্করি’ নামে পরিচিত।এর জের ধরে আইসল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুণ্ড গুনলাগসন ২০১৬ সালে পদত্যাগ করেন এবং ২০১৭ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরীফের সম্পদের পরিমান নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাকিস্তান সংবিধানের ৬৬(১)(এফ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার অযোগ্য ঘোষনা করা হয়।এর পরই তিনি পদত্যাগ করেন।পাকিস্তানের ৭০ বছরের ইতিহাসে কোন প্রধনমন্ত্রীই তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। এতে বাংলাদেশর ২৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম আসে কিন্তু তাদের ব্যাপারে বিস্তারিতি কিছু জানা যায়নি।১৭ অক্টোবর ২০১৭ পনপমা পেপারস দুর্নীতি ফাঁসকারী সাংবাদিক ডেফনে কারোয়ানাকে বোমা বিস্ফোরনের মাধ্যমে মাল্টায় হত্যা কারা হয়।

বাংলাদেশের সংবিধান(টীকা)

বাংলাদেশের সংবিধান(টীকা)
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভের পর ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকার ঢাকায় এসে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে।১০ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধান রচনায় মনোনিবেশ করেন।১১ জানুয়ারী ১৯৭২ স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘অস্থায়ী সংবিধান’ আদেশ জারি করেন।বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন।১০ এপ্রিল ১৯৭২ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। ১১ এপ্রিল ড.কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান কমিটি গঠন করা হয়।কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিল সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং একমাত্র মহিলা সদস্য ছিল রাজিয়া বানু।খসড়া কমিটি ৪৭টি বৈঠকের মাধ্যমে খসড়া চুড়ান্ত করে।১২ অক্টোবর ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান গণ পরিষদে উত্থাপন করা হয় এবং ৪ নভেম্বর ১৯৭২(১৮ কার্তিক ১৩৭৯) তা গৃহীত হয়।প্রতি বছর ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস হিসেবে পালন করা হয়।১৫ ডিসেম্বর সংবিধানে স্বাক্ষর করা হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে তা কার্য়কর হয়।বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১টি প্রস্তাবনা,১১টি ভাগ,১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৭টি তফসিল রয়েছে।রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি ৪টি।এ পর্যন্ত সংবিধানে মোট ১৬ বার সংশোধনী আনা হয়েছে।৫ম তফসিলে জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ,৬ষ্ঠ তফসিলে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ৭ম তফসিলে মুজিবনগন সরকার কর্তৃক জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত হয়েছে।