Friday, March 9, 2018

মেট্রোরেল


মেট্রোরেল

যানযটপূর্ণ নগরী ঢাকাকে যানযট মুক্ত করতে উত্তরা থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ ২৬ জুন ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের কাজ উদ্ভধোন করেন।এর দৈর্ঘ্য ২০.১০ কিলোমিটার বা ১২.৫ মাইল।প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড’।এর পরামর্শক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছে ‘দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশন’। এর অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকা।এ উপলক্ষ্যে ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৪ জাইকার সাথে সরকারের একটি চুক্তি হয়।চুক্তি অনুযায়ী মোট ব্যায়ের ৮৫ শতাংশ প্রদান করে জাইকা।এতে ২৪টি ট্রেন ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী বহণ করতে সক্ষম হবে।মোট স্টেশন সংখ্যা ১৬টি।ট্রেনগুলো সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে।পুরো কাজ তিনটি ধাপে শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য মেট্রোরেল একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। ব্যস্ত নগর জীবনে দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ঢাকার মেট্রোরেল বাংলাদেশের প্রথম দ্রুতগামী বৈদ্যুতিক গণপরিবহন ব্যবস্থা।

ঢাকা মেট্রোরেলের প্রথম চালু হওয়া প্রকল্প হলো এমআরটি লাইন-৬ (MRT Line-6)। এই রুটটি উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বিস্তৃত। এর বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। বর্তমানে এই লাইনে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাত্রী চলাচল করছে।

মেট্রোরেল লাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটারের বেশি এবং এতে ১৬টি স্টেশন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তরা, মিরপুর, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল।

ঢাকার মেট্রোরেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় সাশ্রয়। আগে যে পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, এখন অনেক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচছে এবং রাস্তায় যানবাহনের চাপ কমছে। পাশাপাশি এটি বৈদ্যুতিক শক্তিতে পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশ দূষণ কমাতেও সহায়তা করছে।

মেট্রোরেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় টিকিট ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং আধুনিক ট্রেন পরিচালনা ব্যবস্থা যাত্রীদের ভ্রমণকে সহজ করেছে। নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোরেল শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, এটি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক। ভবিষ্যতে আরও মেট্রোরেল লাইন চালু হলে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং যানজট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে।

সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও যাত্রীদের সচেতনতার মাধ্যমে মেট্রোরেল দীর্ঘদিন দেশের মানুষের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।





No comments: