Monday, January 5, 2015

হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রহঃ)



হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রহঃ)



হযরত জুনায়েদ ইরাকের বাগদাদ নগরীর অধিবাসী ছিলেন। তিনি ছিলেন পীরানে-পীর এবং মা’রিফাতের বাদশাহ তুল্য। তিনি যবরদ্স্ত আলেম ও মুফতী এবং ধর্মীয় বহু শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন। অমিয় উক্তি এবং সূক্ষ্ম ঈঙ্গিতপূর্ণ বাণী করতে তাঁর সমতুল্য কেউ ছিল না। প্রথম হতে শেষ পযর্ন্ত তিনি সকলের নিকট সম্মানিত ছিলেন। তাঁর পূর্বাপর সকল অবস্থা সকলের নিকট আদরণীয় ও প্রশংসনীয় ছিল এবং তিনি দল-মত নির্বশেষে সকলের ইমামরূপে বরেণ্য ছিলেন। তাঁর বাণী তরিকত শাস্ত্রে দলীলরূপে পরিগণিত হয়ে থাকে। সকলের মুখেই তাঁর প্রশংসা শোনা যায়। কেহই তাঁর যাহেরী ও বাতেনী ইলমে দোষারোপ করতে পারেনি। তিনি সুফীদের সরদার ও নেতা ছিলেন। তাঁকে ‘লেসানুল কওম’ বা জাতির মুখপাত্র বলা হত। তিনি নিজেকে ‘আবদুল মাশায়েখ’ অর্থাৎ পীরদের খাদেম বলে নিজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তাঁকে ‘তাওসুল উলামা’ এবং ‘সুলতানুল মুহাক্কেকীন’ও বলা হতো। তিনি শরীয়ত, তরীকত ও হাকীকতের গভীর তলদেশে পৌঁছে ছিলেন। তিনি ‘ইশক’ (প্রেম) ও যোহদে (সাধনায়) অতুলনীয় ছিলেন। তিনি তরীকতের যুগ-প্রবর্তক ইমাম ছিলেন। বহু মাশায়েখ তাঁর মাযহাবের অন্তর্ভূক্ত হন। তরীকতে তাঁর মাযহাবই সবচেয়ে বড় এবং মশহুর (বিখ্যাত)। সে সময়ে তিনি সকল মাশায়েখের কেন্দ্রস্থল ছিলেন। তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেন। মা’রিফাত তাঁর সাহায্যেই বিস্তৃতি লাভ করে, এটা বললে খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবে না। তাঁর এই উচ্চ মযার্দা ও অসীম গুণাবলী থাকা সত্ত্বেও হিংসুটে দুশমনরা তাঁকে কাফের ও যিন্দিক বলতেও কুন্ঠিত হতো না। তিনি হযরত মুহাসেবীর (রহঃ)ও সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। তিনি হযরত সররী সকতীর (রহঃ) ভাগিনা ছিলেন। একবার হযরত সররী সকতী (রহঃ)-কে লোকে জিজ্ঞেস করেছিল, “কোনও মুরীদ কি পীরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে’’ ? হযরত সররী সকতী (রহঃ) বললেন, “হ্যাঁ, নিশ্চয় ! তার প্রকাশ্য প্রমাণ ত এটাই যে, জুনায়েদের পদ ও মযার্দা আমার চেয়ে অনেক উচ্চে”।