Showing posts with label PARU. Show all posts
Showing posts with label PARU. Show all posts

Friday, June 19, 2026

চন্দ্রমুখী



চন্দ্রমুখী

এক গাঁ-এর এক কৃষকের মেয়ে, কুড়ায় বনের কাঠ
বাপে তাহার বর্গা জমিতে লাগাইয়াছে পাট।
চন্দ্রমুখী নামটা তাহার, চন্দ্রের মত রূপ
পাটের ক্ষেতে যাইয়া একদিন বাপেরে খুঁজিছে খুব
বাপে তাহার কাস্তে লইয়া কাটিতেছিল আগাছা
নিকটে গিয়া কহে তাহারে “বনেতে যাইব বাছা”
জননী তাহার ছিলনা বাঁচিয়া এই ভব সংসারে
একারনেই দেখিতে হইতো আপন সংসার তারে।
বলিয়া বাপেরে চন্দ্রমুখী বনেতে গেল চলিয়া
 “সিকার ভিতর ভাত রয়েছে” বাপেরে গেল বলিয়া।
যাইয়া বনেতে, আপন মনেতে বনের কাঠ কুড়াইছে
মাথার উপর খরিশ গোখরা বাতাশেতে দুলিছে।
দুলিতেছিল মাথার উপরে চন্দ্র দেখেনি তারে,
না দেখিয়া চন্দ্র তাহারে দা’ দিয়া আঘাত করে।
চক্র তুলিয়া খরিশ গোখরা, রাঙাইয়া দুটি চোখ
অভাগী সেই চন্দ্রমুখীর কপালে মারিলো ঠোক।
জনশূন্য বনের মাঝে লুটাইয়া পড়িল মাটিতে
পাটের ক্ষেত দিয়া বাজান ফিরিল সন্ধ্যাতে।
বাড়িতে আসিয়া খুঁজিয়া যখন পাইলোনা আর তারে
বনের দিকে রওনা হলো, আরও খুঁজিল দ্বারে দ্বারে।
বনেতে গিয়া দেখিল চন্দ্র ঘুমায়ে আছে একা 
সর্প বিষেতে চন্দ্রমুখ তার যায়না চেয়ে দেখা।
বনের পাখিরা ডাকিছে তখন কিচিরমিচির করে
 ‘ডাকিসনা তোরা, চন্দ্র ঘুমায়” বলিছে উচ্চ স্বরে।
দুচোখের জল করে টলমল বাহু বেয়ে পড়িছে
রাত্রি বাড়িছে চন্দ্রের বাপ, তার জাগার আসায় রয়েছে।







বীর




 বীর

দেশের জন্য বায়ান্নোতে একটি তরুন দল

কোন স্বার্থে প্রাণটা দিল? আজ আমাকে বল।

পাক-বাহিনীর অত্যাচারে প্রাণটা দিল যারা

শহীদ হয়ে বেঁচে আছে মোদের মাঝে তাঁরা।

রফিক, শফিক, সালাম, বরকত প্রমুখ মহানজনে

পাক শাষকের হাতটা থেকে বাংলাকে কেড়ে আনে।

বুকের রক্তের বিনিময়ে, বিলিয়ে দিয়ে প্রাণ

বিশ্বের বুকে রেখেছে তাঁরা বাংলা ভাষার মান।

টাকার সাথেও হয়না কভু এদের তুলনা

বীর বাঙালির এই অবদান কখনই ভূলনা।

লাল সবুজের ঐ পতাকা পূবাল হাওয়ায় দোলে

গান গেযে যায় বাংলা ভাষায়, বীরের কথা বলে।



Md. Parvej Ahmmed



   

Friday, November 27, 2020

না বলা কথা

 

না বলা কথা



প্রেসির দেখা যে আবার পাবো এমনটা কল্পনাও করিনি!কাল ওর সাথে আবারও দেখা হলো স্বপ্নে!স্বপ্ন হলেও যেন সত্য ওর সাখে দেখা হয়েছে পুরোনো দিনের মতইযখন চলে যাচ্ছিল তখন বেদনায় বুকটা ঘুমের মধ্যেও যে শূন্য হয়ে যাচ্ছিল তা আমি অনুভব করেছিলাম

ওর আসল নাম প্রেসি তবে আমি ওকে পারু নাম দিয়েছিলামআমার সবচেয়ে প্রিয় নাম এটিআমি নিজেও জনসমাজে পার্বতী পারু নামে পরিচিতগত বর্ষায় প্রেসির সাথে আমার প্রথম দেখাশুরুতেই মস্তবড় ভুল করে বসলামপেছন থেকে দেখেই আমার বন্ধু আসু মনেকরে সজোরে একটা চড় বসিয়ে দিলাম প্রেসির পিঠেযখন দেখলাম নাক চ্যাপ্টা মেমে সাহেব,এটা আসু নয় তখন পালাবার আপ্রাণ চেষ্টা করেও কোনো লাভ হলো নাআমাদের দেশের বাঙালী বাবুরা ততক্ষণে আমায় ঘিরে ফেলেছেএখন শুধু অনুমতির পালাপ্রেসি অনুমতি দিলেই বাবুরা আমাকে আলুভর্তা করে ফেলবেকিন্তু ঘটনা হলো অন্যরকমপ্রেসি নিজেই আমাকে রক্ষা করলো

Saturday, December 7, 2019

পিতা

পিতা(১৩.০৬.২০১৪)


জগতে পিতামাতার স্নেহ বা আদর কোনটাই বদির ভাগ্যে জুটে নাই।ভূমিষ্ঠ হইবার পূর্বেই পিতামাতার বিচ্ছেদ বদির ভাগ্য থেকে পিতৃস্নেহ ছিনিয়া লইয়াছে।ভূমিষ্ঠ হইবার পর পিতার পরিচয় পাইলেও পিতার সহিত তাহার সাক্ষাত হইয়া ওঠে নাই। সুতরাং পিতাকে সে নামে চিনিলেও বাস্তবে চিনে না।

জগতে আসিবার পূর্বেই যাহার পিতৃস্নেহ বিলীন হয় উহার ভাগ্য কতটা সুপ্রসন্ন কেবলমাত্র বিধাতাই তাহা বলিতে পারেন।কোন মানুষের পক্ষে তাহা অনুধাবন করা সম্ভব নয়।আর সম্ভব নয় বলেই বদির ভাগ্য তাহাকে দ্বিতীয়বার ফাঁকি দিল। তাহার মাতার দ্বিতীয় বিবাহ তাহাকে নিঃশ্ব করিয়া দিল। জগতে তাহার আর কিছুই রইল না।এরুপ পরিস্থিতিতে উহার চিরবিদায় হইলেও আকস্মিক হইবার কিছুই ছিল না।কিন্তু বিধাতা তাহা করেন নাই। বোধ করি এই না করার পেছনে গভীর কোন রহস্য লুকায়িত আছে যাহা আমাদের পক্ষে উদঘাটন করা সম্ভব নয়।

স্পাইডারম্যান


স্পাইডারম্যান


আমাদের এমন ক্রান্তিকালে স্পাইডারম্যান যে সত্যিই আসবে একথা কেউ কল্পনাও করেনি।তবে একথা অবশ্য ঠিক যে স্পাইডারম্যান সব সময় সমস্যা জর্জরিত স্থানে গিয়ে সমস্যার সমাধান করে থাকেন।আমি নিজে স্পাইডারম্যানকে এখনো দেখিনাই।তবে লোকমুখের ভাষ্য অনুযায়ী নিশ্চিত হয়েছি যে তিনি এসেছেন।আমাদের এমন দুঃসময়ে স্পাইডারম্যানের আগমন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার।তার প্রথম সাক্ষাত পেয়েছেন ঢাকার কমলাপুর সংলগ্ন বস্তিবাসীগণ।গত সপ্তাহে সেখানে দূর্ঘটনাবশত অগ্নিকাণ্ড ঘটে।দমকল বাহিনীর প্রাণপণ চেষ্টার মাঝেই দেখা যায় স্পাইডারম্যান একটি শিশুকে কাঁধে নিয়ে আগুনের মধ্যে থেকে ঝুলতে ঝুলতে আসছে। গণমাধ্যম গুলোতে খবরটি বেশ সাড়াও ফেলেছে।তবে সমালোচনাও কম হচ্ছেনা।

যাত্রা


যাত্রা


শেষ পর্যন্ত ১০ ডিসেম্বরই দিন ঠিক করা হলো। আমার ফুফাতো বোনের বিয়ে। দুই দিন আগে ডিসেম্বর সকালে আমি ঢাকা থেকে রওয়ানা হলাম। ফুফার বাড়ি দক্ষিণাঞ্চলে। ঢাকা থেকে বাসে একদিনের পথ। আমার আসনটি ছিল মাঝামাঝি।আমি আমার আসনটিতে বসলাম এবং যথা সময়ে বাস ছাড়ল। বাস তখন পূর্ণ গতিতে চলছে। হঠাৎ আমার পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখি আমার বিপরীত পাশে দেড়-দুই বছরের একটি বাচ্চা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।কি মিষ্টি হাসি! বড় বড় দুটি চোখ,মোটা সোটা দেহ আর তার সাথে বাচ্চাটির চাঞ্চল্যতা সবকিছু এতই সক্রিয় ছিল যে, আমার হাত দুটি না বাড়িয়ে পারলাম না।বাচ্চাটির পাশে ছিল ওর মা এবং তার পাশের সিটে বসা বৃদ্ধ লোকটি ওর নানা। অবশ্য এসব আমি পরে জেনেছি

মানিক


মানিক

এই জগতে পিতা-মাতার স্নেহের তুল্য আর কি হইতে পারে? শৈশবে তাহাদের পরম স্নেহের কারনেই বোধকরি একটি শিশু অজানা-অচেনা পৃথিবীতে আসিয়া তাহাকে আপন করিয়া লয়।এক বেলা আহার না করিলে দুঃখ নাই কিন্তু রাত্রি কালে মাতৃক্রোড়ে শায়িত হইবার সুযোগ হারাইলে কষ্টের অন্ত থাকেনা। বোধকরি এইরূপ যন্ত্রনাই মানিকের ওপার যাত্রার অন্যতম প্রধান কারন। 

টোকাই





টোকাই

ছোট বেলাতেই শফি পিতামাতা ছাড়া।১৯৫৮ থেকে পূর্ব পকিস্থানে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করেন।তখন শফির বয়ষ দেড়-দুই বছর।শফির পিতা মাজেদ আলী পেশায় ছিলেন একজন দিন মজুর। ‘৬১ সালে তিনি পাক-সেনাদের হাতে নিহত হন।কি কারনে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল তার কোন হদিস কেউ জানত না।তাঁর স্ত্রী আহেলী খাতুনের ছিল যক্ষা ব্যাধি।স্বামীর মৃত্যুর কয়েক বছর পরই তিনিও বিধাতার ডাকে সাড়া দিয়ে শেষ খেয়ার সঙ্গী হণ।
শফির বয়ষ তখন সাত।পিতামাতার মৃত্যুতে সে এখন একা।আত্মীয় স্বজন যেখানে যারা আছে সবাই নিজেদের চিন্তায় ব্যস্ত।হাজার হলেও শফি একজন মানুষ।পেটের দায়ে তাই সে যশোর ট্রেন স্টেশনে টোকাই হিসেবে কাজ শুরু করে।কিন্তু অত্যাচারের স্ট্রিমরোলারে সমগ্র জাতি যেখানে অভুক্ত,সেখানে টোকাই এর খাবার আসবে কোথা থেকে?
আজ যশোরের এই ট্রেন স্টেশনই তার সবথেকে আপন।সে কোনদিন তাকে দুবেলা অভুক্ত রাখে আবার কোনদিন তিনবেলা।শফি লক্ষ্য করে প্রতিদিন একই পথ ধরে ট্রেন গ্রাম থেকে শহরে পাড়ি ধরে।তার বাল্য মনেও এই পথ ধরে শহরে যাওয়ার সাধ জাগে।অবশেষে দলের চার-পাঁচজন মিলে ট্রেনে চেপে শহরে চলে এল।

বিবাহ


বিবাহ (৩১.০৮.২০১৩)

বাড়িতে পা রাখিবার তিল পরিমান জায়গা নাই।মাঝে মধ্যে দুই চারিজন লোক আসিতেছেন আবার চলিয়া যাইতেছেন।সর্বক্ষনের জন্য ফাঁকা হইতেছে না।বাড়ির কর্তা মিলান মিয়ার হাফ ছাড়িবারও সময় নাই।একবার তিনি নিমন্ত্রনের কাগজখানা হাতে লইয়া দেখিতেছেন কেউ বাদ পড়িল কিনা, আবার তিনি সদয় এর কাগজখানা দেখিয়া লইতেছেন কোন কিছু সদয় করিতে বাকী রহিয়াছে কি না।ক্ষণে ক্ষণে আবার নতুন নতুন বিষয় সদয় তালিকায় স্থান পাইতেছে।বাড়ির বারান্দায় পড়শিদের আসর বসিয়াছে।আসরের মাঝে রহিয়াছেন মিলান মিয়ার মা-পরিজন সহ আরো অনেকে।ক্ষণে ক্ষণে আবার তাহাদের মাঝে কান্নার রোল পড়িতেছে।কেনইবা পড়িবেন? বাড়ির একমাত্র কন্যা পারুর বিবাহ যে দ্বার গোড়ে।
বিবাহের সকল সদয় ক্রয় করা হইয়াছে।তবে কাঁচা তরকারি আর মাছ এখেনো ক্রয় করা হয় নাই।মাছ তিনি নিজের পুকুর থেকেই ধরিবেন। আর কাঁচা তরকারি বিবাহের আগের দিন ক্রয় করিলেই চলিবে।১৬ই  নভেম্বর ২০০৭ কন্যর বিবাহ।যোগাড়যন্তের কোন কমতি রাখেন নাই কন্যার বাপ।আগে ভাগে গরু কিনিয়া নিজ গোয়ালে রাখিয়া তার মেহমানদারি চলিতেছে।সাথে রহিয়াছে এক হালি ছাগল।পারুর চাচা আগে থেকেই ঠিক করিয়াছেন নিজ খামারের অর্ধেক মুরগি পারুর বিবাহে রান্না হইবে।কন্যার চাচা-চাচি, মামা-মামি, খালা-খালু, পড়শী সকলেই তাহার বিবাহে কিছু করিবার আপ্রাণ চেষ্টা চালাইতেছেন।তাহাদের আগ্রহ দেখিলেই বুঝিতে পরা যায়, পারু সকলেরই আদরের কন্য।