Wednesday, July 1, 2026

শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি-রচনা





শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি

শরীফ ওসমান বিন হাদি (জন্মনাম: ওসমান গনি) ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন ঝালকাঠী জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, অধ্যয়নপ্রিয় ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন। তাঁর পিতা মাওলানা আবদুল হাদি ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম। পারিবারিক, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ তাঁর চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তিনি ঝালকাঠি এন. এস. কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি শুধু একজন শিক্ষার্থী ছিলেন না; ইতিহাস, রাষ্ট্রচিন্তা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ইসলামি সভ্যতা নিয়ে গভীর অধ্যয়নের জন্যও পরিচিত ছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স-এর বিজনেস স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতা তাঁর কাছে কেবল একটি পেশা ছিল না; তিনি এটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখতেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শরীফ ওসমান বিন হাদি একটি আলোচিত নাম। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি, ইতিহাস ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে গভীর আগ্রহী ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি সংগ্রাম। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিয়মিত লেখালেখি, আলোচনা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।


তিনি ছিলেন একজন তীক্ষ্ণ বিশ্লেষক ও শক্তিশালী বক্তা। সমসাময়িক রাজনীতি, বাংলাদেশের ইতিহাস, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ইসলামি রাজনৈতিক চিন্তা নিয়ে তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হতো। যুক্তি, তথ্য ও ইতিহাসের সমন্বয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের কারণে তিনি তরুণ সমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর বক্তৃতায় ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে আদর্শ, রাষ্ট্রনীতি এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা বেশি গুরুত্ব পেত।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান যখন সমগ্র বাংলাদেশকে আন্দোলিত করছিল, তখন শরীফ ওসমান বিন হাদি রাজপথের সামনের সারির একজন সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। জুলাই গণআন্দোলনের শুরু থেকেই শরীফ ওসমান বিন হাদি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। সে সময় তিনি ঢাকার রামপুরা এলাকার সমন্বয়ক হিসেবে আন্দোলন সংগঠিত করেন। পুলিশের দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি আন্দোলনকারীদের পাশে অবস্থান নেন এবং রাজপথে সমাবেশ, মিছিল ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।ঢাকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্রে পরিণত হন। তাঁর জোরালো বক্তব্য, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাহসী অবস্থান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছিল।

তিনি কেবল বক্তৃতা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি; আহত আন্দোলনকারীদের খোঁজ নেওয়া, শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, আন্দোলনের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এবং গণহত্যার বিচার দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনেও সক্রিয় ছিলেন। তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় বারবার উঠে আসত—"যে রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতার নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে, সেই রক্তের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম থামবে না।" জুলাই আন্দোলনের পর তরুণদের কাছে তিনি প্রতিবাদ, সাহস ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি উপলব্ধি করেন যে আন্দোলনের চেতনাকে টিকিয়ে রাখতে একটি আদর্শভিত্তিক সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকেই ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত হয় ইনকিলাব মঞ্চ। শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র।

ইনকিলাব মঞ্চের লক্ষ্য ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা সংরক্ষণ, শহীদদের রক্তের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি উত্থাপন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং তরুণদের নৈতিক নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করা। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি দেশের অন্যতম আলোচিত নাগরিক-রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়, যার পেছনে হাদির সাংগঠনিক দক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল শরীফ ওসমান বিন হাদি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন যে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ (শাহবাগ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সংক্ষিপ্ত বার্তায় লেখেন, "ঢাকা-৮, স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইনশাআল্লাহ।" এই ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গন ও তরুণ সমাজে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে একটি ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেন। বড় বড় শোডাউনের পরিবর্তে তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে গণসংযোগকে অগ্রাধিকার দেন। শাহবাগ, রমনা, পল্টন, মতিঝিল, শান্তিনগর, মালিবাগ, কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন পথসভা, চায়ের আড্ডা, দোকানপাটে মতবিনিময় এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন। তিনি তরুণ ভোটার, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ এবং পেশাজীবীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভা করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র, জবাবদিহিমূলক শাসন, রাজনৈতিক সংস্কার এবং শহীদদের রক্তের বিচার নিশ্চিত করা।

গণসংযোগ চলাকালে প্রায়ই দেখা যেত, তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক মঞ্চ ছাড়াই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। অনেক স্থানে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে ঘিরে ফেলতেন এবং তাঁর বক্তব্য শুনতেন। তরুণদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রচারণা স্বেচ্ছায় ছড়িয়ে দেয়, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর প্রচারণা ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। তিনি বারবার বলতেন, "আমি ভোট চাই শুধু প্রতিনিধি হওয়ার জন্য নয়; রাজনীতিকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।" এই বার্তাই ছিল তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম মূল সুর।

ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় শরীফ ওসমান বিন হাদি প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থায়নের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে হলে জনগণের অর্থেই নির্বাচন করা উচিত। এ উদ্দেশ্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বচ্ছভাবে নির্বাচনী তহবিলে অনুদানের আহ্বান জানান। তাঁর আহ্বানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষার্থী, প্রবাসী এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সহায়তা করেন। কেউ ১০০ টাকা, কেউ ৫০০ টাকা, আবার কেউ কয়েক হাজার টাকা অনুদান দিয়ে তাঁর প্রচারণার অংশীদার হন। তার সমর্থকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে ক্রাউডফান্ডিং (Crowdfunding) বা গণঅর্থায়নের ধারণাকে নতুনভাবে জনপ্রিয় করে তোলে এবং প্রমাণ করে যে জনগণের ভালোবাসা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেও একটি রাজনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করা সম্ভব।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর, শুক্রবার। জুমার নামাজ আদায় শেষে ঢাকার পল্টনের বিজয়নগর এলাকার একটি মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে তাঁর মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। আশপাশের মানুষ ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ মুহূর্তেই দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর হাজারো মানুষ শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। ঢাকায় জানাজা শেষে সময়ের এই বিদ্রেহী নেতাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে বিদ্রেহী কবি কাজীনজরুল ইসলামের পাশে কবর দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মত-পথের ভিন্নতা ভুলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আলেম, সাংবাদিক, শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ নাগরিক এক কাতারে দাঁড়িয়ে তাঁর জন্য দোয়া করেন। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। মানুষের উপস্থিতি যেন বলে দিচ্ছিল—একজন মানুষ চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর উচ্চারিত আদর্শ ও প্রতিবাদের ভাষা এখনও বেঁচে আছে।

হত্যাকাণ্ডের পর দেশব্যাপী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজ এই হত্যার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে, একাধিক অভিযান পরিচালনা করে এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। সরকার দ্রুত বিচার ও প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেয়। তদন্তে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজনদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘ সময় পলাতক ছিলেন। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত আদালত একাধিকবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়িয়েছে এবং মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
 
তার মৃত্যুকে অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে বিভিন্ন দেশী ও আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে স্টেটমেন্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-
  • Reuters (২০ ডিসেম্বর ২০২৫): শরীফ ওসমান বিন হাদিকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরুণ নেতা এবং জাতীয় নির্বাচনের উদীয়মান প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাঁর হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে বর্ণনা করেছে।
  • Al Jazeera (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫): তাঁকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতৃস্থানীয় মুখ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, তাঁর মৃত্যু দেশজুড়ে গভীর শোক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
  • Associated Press (AP) (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫): হাদিকে ২০২৪ সালের আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁর মৃত্যুর পর দেশব্যাপী বিক্ষোভের কথা তুলে ধরেছে।
  • South China Morning Post (SCMP) (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫): তাঁকে ২০২৪ সালের আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
  • The Business Standard (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫): তাঁকে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, তরুণদের অনুপ্রেরণা এবং নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্বকারী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
  • প্রথম আলো (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫): তাঁর হত্যাকাণ্ডকে জাতীয়ভাবে আলোচিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতির সংবাদ নিয়মিত প্রকাশ করেছে।
  • দ্য ডেইলি স্টার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫): শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে তুলে ধরে এবং এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
  • হিন্দুস্তান টাইমস (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫): তাঁর মৃত্যুর পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শান্ত থাকার আহ্বান এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

মাত্র বত্রিশ বছরের জীবনে শরীফ ওসমান বিন হাদি প্রমাণ করেছিলেন-মানুষের জীবন দীর্ঘ না হলেও তা অর্থবহ হতে পারে। তিনি কলমে, কণ্ঠে এবং রাজপথে নিজের বিশ্বাসকে ধারণ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় শোক, তাঁর সহযোদ্ধাদের জন্য এক গভীর ক্ষতি এবং বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। সময়ই তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে মূল্যায়ন করবে, তবে তাঁর সাহস, স্পষ্টভাষিতা এবং আদর্শের প্রতি অটল অবস্থান তাঁকে সমসাময়িক ইতিহাসে একটি আলোচিত নাম হিসেবে স্মরণীয় করে রাখবে।







No comments: