Showing posts with label বাংলদেশ বিষয়াবলী. Show all posts
Showing posts with label বাংলদেশ বিষয়াবলী. Show all posts

Monday, July 6, 2026

বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭



বাজেট ২০২৬-২০২৭

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো জাতীয় বাজেট। এটি মূলত সরকারের একটি বার্ষিক আর্থিক পরিকল্পনা, যেখানে একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে সরকারের সম্ভাব্য আয়, ব্যয়, উন্নয়ন কর্মসূচি, করনীতি এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্যসমূহ নির্ধারণ করা হয়। বাজেটের মাধ্যমে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কোন খাতে কত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে, কীভাবে রাজস্ব আহরণ করা হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা হবে। তাই জাতীয় বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি একটি দেশের উন্নয়নের রূপরেখা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা।


জাতীয় বাজেটের প্রধান উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করাও বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। একটি বাস্তবসম্মত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত বাজেট দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Wednesday, July 1, 2026

শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি-রচনা





শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি

শরীফ ওসমান বিন হাদি (জন্মনাম: ওসমান গনি) ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন ঝালকাঠী জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, অধ্যয়নপ্রিয় ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন। তাঁর পিতা মাওলানা আবদুল হাদি ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম। পারিবারিক, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ তাঁর চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তিনি ঝালকাঠি এন. এস. কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি শুধু একজন শিক্ষার্থী ছিলেন না; ইতিহাস, রাষ্ট্রচিন্তা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ইসলামি সভ্যতা নিয়ে গভীর অধ্যয়নের জন্যও পরিচিত ছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স-এর বিজনেস স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতা তাঁর কাছে কেবল একটি পেশা ছিল না; তিনি এটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখতেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শরীফ ওসমান বিন হাদি একটি আলোচিত নাম। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি, ইতিহাস ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে গভীর আগ্রহী ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি সংগ্রাম। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিয়মিত লেখালেখি, আলোচনা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

Sunday, June 21, 2026

আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

 

বেগম খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে কয়েকজন ব্যক্তিত্ব তাঁদের কর্ম, নেতৃত্ব ও সংগ্রামের মাধ্যমে গভীর ছাপ রেখে গেছেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁদের অন্যতম। তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন; তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক আলোচিত নেতৃত্ব, একজন নারী নেতৃত্বের প্রতীক এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক ধারার প্রধান মুখ। তাঁর জীবনসংগ্রাম, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দৃঢ় মনোবল তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Friday, March 9, 2018

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ


রোহিঙ্গা বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা পরিচিতি
রোহিঙ্গা একটি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী যারা নিজ দেশেও পরবাসী রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায় আরাকানী মুসলিমরা সেখানে হাজার বছর ধরে বসবাস করলেও বাংলাভাষী মুসলিম হওয়ার কারনে তারা মিয়ানমারের সরকার নাগরিকদের কাছে বিদেশী,বাঙ্গালি বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে পরিচিত জাতি সংঘ রোহিঙ্গাদের  "বিশ্বের সবচেয়ে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী " হিসেবে অভিহিত করেছেন
কারও কারও মতে রোসাঙ্গ থেকে রোহিঙ্গা শব্দটির উদ্ভবনবম-দশম শতকে আরাকান রাজ্য রোহান কিংবা রোহাঙ নামে পরিচিত ছিলরোহিঙ্গা শব্দটি রোসাঙ্গ শব্দটি থেকে এসেছে সেই অঞ্চলের অধিবাসী হিসেবেই রোহিঙ্গা শব্দের উদ্ভব
কারও কারও মতে, রোহিঙ্গা শব্দটি রেঙ্গুন শব্দের পরিবর্তিত রুপসেই মতে রেঙ্গুনে বসবাসকারী বার্মিজ সম্প্রদায় রোহিঙ্গা নামে পরিচিত
কারও কারও মতে আফগানিস্তানের রোহিঙ্গা জেলা থেকে আগত হওয়ার কারনে এই নামকরনতাদের মতে, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বীন বখতিয়ার খলজীসহ বাংলার মুসলমান বিজেতা শাসকগোষ্ঠী ইসলাম প্রচার প্রসারের জন্য আফগানিস্তানের রোহিঙ্গা জেলা থেকে কিছু লোককে ধর্ম প্রচারের জন্য আরাকানে পাঠিয়েছিলেন সেই মতে তাদের নামানুসারে নাম হয় রোহিঙ্গা

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বাংলাদেশ


যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বাংলাদেশ

উপস্থাপনা
     যুদ্ধাপরাধ মানবতাবিরোধী এক ঘৃণ্য অপরাধ।স্বাধীনতাকামী জাতির উপর বর্বর নির্যাতন ও তাদের স্বাধীনতায় বাধাগ্রস্থ করাই তাদের প্রধান কাজ।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধাপরাধ এক স্পর্শকাতর বিষয়। স্বাধীনতার ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও আমার সম্পূর্ণরূপে এ দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারিনি।তবে ২০০৯ সালের পর থেকে প্রধান প্রধান যুদ্ধাপরাধীদের মুত্যুদণ্ড ও অন্যান্যদের বিচারের আওতায় আনার ফলে বর্তমানে এদেশের মানুষ কিছুটা হলেও বোঝামুকক্ত হতে পেরেছে।
যুদ্ধাপরাধের সঙ্গা
     যুদ্ধাপরাধ বলতে কোন দেশ, জাতি সামরিক বা বেসামরিক ব্যক্তি কর্তৃক যুদ্ধের প্রথা বা আন্তর্জাতিক নীতিমালা লঙ্ঘন করাকে বোঝায়।
     হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত  ‘দ্য বুক অব কমিউনিজম:ক্রাইম,টেরর,রিপ্রেশন’ গ্রন্থে যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে বলা হয়েছে,
            “যুদ্ধের আইন বা প্রথা লঙ্ঘন করা বলতে হত্যা, নির্যাতন বা সাধারন নাগরিকদের নির্বাসিত করে অধিকৃত জনপদে ক্রীতদাস শ্রম ক্যাম্পে পরিণত করা,আটককৃতদের হত্যা ও নির্যাতন, অপহৃতদের হত্যা সামরিক বা বেসামরিক প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই দায়িত্ব-জ্ঞানহীন নগর,শহর ও গ্রামাঞ্চলকে ধ্বংশস্তুপে পরিণত করাকে উল্লেখ করা হয়েছে।”
     চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের ১৪৭ ধারায় যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে বলা হয়,
            “ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা,নির্যাতন বা অমানবিক ব্যবহার এবং কারো শরীর বা স্বাস্থ্যে গুরুতর আঘাত করা বা তার দুর্দশার কারণ তৈরি,অন্যায় ভাবে কাউকে বিতাড়ন বা স্থানান্তর করা বা আটক কারা, শত্রুবাহিনীর সেবাদানে বাধ্য করা,যথাযথ ও নিয়মতান্ত্রিক বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে কাউকে জিম্মি করা, বিপুল পরিমানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ও সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, সামরিক প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বে আইনি ও নীতিবিরুদ্ধ ও ওপরের যেকোন এক বা একাধিক কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
     সুতরাং যুদ্ধাপরাধ বলতে আমরা বুঝি,
                A war crime is an act that constitutes a serious violation of the laws of war that gives rise to the individual criminal responsibility.

বঙ্গবন্ধু-রচনা


বঙ্গবন্ধু
উপস্থাপনা

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় বাংলাদেশের মানুষ ও তাদের কল্যানের জন্য ব্যয় করেছেন।বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে সংঘবদ্ধ করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।প্রত্যেক বাংলাদেশীর জন্য জাতির পিতার জীবনী সম্পর্কে জ্ঞঅনার্জন করা অপরিহার্য।
জন্ম ও পরিচয়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।গোপালগঞ্জ বর্তমানে একটি জেলা।তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফুর রহমান এবং তাঁর দাদার নাম শেখ আবদুল হামিদ।তাঁর মাতার নাম সাহেরা খাতুন এবং নানার নাম আবদুল মজিদ।তাঁর আকিকার সময় তাঁর নানা আবদুল মজিদ বঙ্গবন্ধুর নাম রেখেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং বলেছিলেন এ নাম জগৎ জোড়া খ্যাত হবে।পিতা-মাতা তাকে আদর করে ‘খোকা’ বলে ডাকতেন।এবং ভাইবোন ও গ্রামবাসির নিকট তিনি ‘মিয়াভাই’ বলে পরিচিত ছিলেন।বর্তমানে ১৭ই মার্চ সারাদেশে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়।
শৈশব
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈমব সম্পর্কে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন তাঁর ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থে বলেন,
      “আমার আব্বার শৈশব কেটেছিল টুঙ্গিপাড়ার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে,মেঠো পথের ধুলোবালি মেখে।বর্ষার কাদাপানিতে ভিজে।”
বঙ্গ বন্ধু বলেন,
      “ছোট সময়ে আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম।খেলাধুলা করতাম, গান গাইতাম এবং খুব ভাল ব্রতচারী করতে পারতাম।” –(অসমাপ্ত আত্মজীবনী)

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র


রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাগেরহাট জেলার রামপালে নির্মিত কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা পশুর নদীর তীরে অবস্থিত।রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন থেকে ১৪ কি.মি দূরে এবং বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান থেকে ৭০ কি.মি.দূরে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মানে প্রধান দেশ হিসেবে সহায়তা করেছে ভারত। প্রকল্পটির নাম মূল নাম মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মানের জন্য ভারতের হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড এর সাথে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের একটি চুক্তি হয়।প্রকল্পটির মালিক প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (BIFPCL), যা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) এবং ভারতের NTPC Limited-এর যৌথ প্রতিষ্ঠান।রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। প্রথম ইউনিট ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতা নিয়ে ২০২২ সালে উৎপাদনে আসে এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালুর মাধ্যমে ২০২৩ সালে কেন্দ্রটি পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছে।রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১,৩২০ মেগাওয়াট (MW)। এখানে দুটি ইউনিট রয়েছে, প্রতিটির ক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত হয়, যার মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে কম জ্বালানি ব্যবহার করে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে সুন্দরবনের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রটিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য ইউনেস্কো বাংলাদেশকে ১৪টি শর্ত দিয়েছিল। শর্ত গুলো হলো-

১. সুন্দরবনের ওপর প্রকল্পের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে।
২. একটি পূর্ণাঙ্গ Strategic Environmental Assessment (SEA) করতে হবে।
৩. সুন্দরবনের Outstanding Universal Value (OUV) বা বিশ্ব ঐতিহ্যগত মূল্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. নতুন শিল্প প্রকল্পের সমষ্টিগত প্রভাব (cumulative impact) বিশ্লেষণ করতে হবে।
৫. কয়লা পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৬. ছাই (fly ash ও bottom ash) ব্যবস্থাপনা নিরাপদ করতে হবে।
৭. দূষিত পানি নদীতে ছাড়ার আগে পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. পশুর নদীর পানি, জীববৈচিত্র্য ও জলজ প্রাণী রক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।
৯. কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ চলাচলের কারণে সুন্দরবনের ওপর প্রভাব কমাতে হবে।
১০. নদী খনন (dredging) ও নৌ চলাচলের পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
১১. তেল, রাসায়নিক বা কয়লা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি পরিকল্পনা থাকতে হবে।
১২. সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে ডলফিন, বাঘ ও অন্যান্য প্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।
১৪. ভবিষ্যৎ শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুন্দরবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

রামপাল কেন্দ্রে সাধারণত বিটুমিনাস (Bituminous) কয়লা ব্যবহার করা হয়। এই কয়লা মূলত ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে আমদানি করা হয়।

সাধারণত এই ধরনের কয়লার বৈশিষ্ট্য হলো—

  • তাপ উৎপাদন ক্ষমতা (Calorific Value) বেশি, ফলে কম কয়লায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
  • সালফারের পরিমাণ তুলনামূলক কম রাখা হয়, যাতে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) দূষণ কম হয়।
  • ছাইয়ের পরিমাণ (Ash content) নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়, যাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।
  • কয়লার মান পরীক্ষা করে (যেমন আর্দ্রতা, সালফার, ছাই, তাপমান) বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপযোগী কয়লা গ্রহণ করা হয়।
কেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য Flue Gas Desulfurization (FGD), **Electrostatic Precipitator (ESP)**সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে কয়লা পোড়ানোর ফলে নির্গত দূষণ কমানো যায়।

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ, শিল্পায়ন বৃদ্ধি এবং জাতীয় গ্রিডকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি নিয়মিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রটি মাসে ৬০০–৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এটি প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা দেশের মোট উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল।

বঙ্গবন্ধু-১


বঙ্গবন্ধু-১
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রাণলায়ের নিয়ন্ত্রানাধীন দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।বিটিআরসি ও স্পারসো এটি চালু করাবে।এটি থৈরিতে কারিগরি সহায়তিা দিয়েছে ফ্রান্সের থেলিস আ্যালেনিয়া স্পেস এবং এটি ফ্রান্সেই তৈরি হচ্ছে।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই স্যাটেলাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপন করা হবে।তবে এর স্টেশন হবে গাজীচুরের রাজেন্দ্রপুরে ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায়।এ উপলক্ষে গাজীপুরে ৫ একর জায়গা জুড়ে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কো.লি. এর পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপন করা হলে বাংলাদেশ হবে ৫৭ তম স্যাটেলাইট থাকা দেশে।এতে মহাকাশে অরবিটাল স্লট স্থাপনে সহায়তা করছে রাশিয়া এবং এর কক্ষপথ হবে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের ৪০ টি ট্রান্সপণ্ডার থাকবে যার ২০টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে বাকী বিশটি প্রতিবেশী ৬ টি দেশে ভাড়া দেওয়া যাবে।প্রথমে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং পরে ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ উৎক্ষেপনের কথা থাকলেও এটি ২০১৮ সালের এপ্রিলে উৎক্ষেপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উৎক্ষেপনের পরবর্তী এক বছর এর তদারকি করবে নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান।এটি আগামী ১৮ বছর মহাকাশে থেকে সেবা দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

জাতীয় গণহত্যা দিবস


জাতীয় গণহত্যা দিবস

গণহত্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ  Genocide. ১৯৪৪ সালে শব্দটি প্রথমব্যবহৃত হয়।গণহত্যা বলতে সধারণত কোন দেশ,জাতি, গোষ্ঠী অথবা ভিন্ন মতাদর্শীদের খুন বা মানসিক বা শারিরীক নির্য়তনকে বোঝায়।১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তির আন্দোলনকে শ্বাসরোধ করতে ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ রাতে এদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবহিনী।অপরেশন সার্চ লাইটের নামে শুধু ঢাকাতেই ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ জনতা সহ ৫০ হাজারের অকিক লোককে হত্যা করে ঐ এক রাতেই।একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের স্মরণে ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব ১১ মার্চ ২০১৭ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।জাতীয় সংসদে স্বীকৃতির পর ২০ মার্চ ২০১৭ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মার্চ দিনটি গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। অনুমোদনের পর ২১মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পরিপত্র জারির মাধ্যমে ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত দিবস হিসেবে ২৫ মার্চ তারিখকে ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।এর ফলে এখন থেকে প্রতি বছর ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পারিত হবে।

বাংলাদেশের সংবিধান(টীকা)

বাংলাদেশের সংবিধান(টীকা)
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভের পর ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকার ঢাকায় এসে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে।১০ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধান রচনায় মনোনিবেশ করেন।১১ জানুয়ারী ১৯৭২ স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘অস্থায়ী সংবিধান’ আদেশ জারি করেন।বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন।১০ এপ্রিল ১৯৭২ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। ১১ এপ্রিল ড.কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান কমিটি গঠন করা হয়।কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিল সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং একমাত্র মহিলা সদস্য ছিল রাজিয়া বানু।খসড়া কমিটি ৪৭টি বৈঠকের মাধ্যমে খসড়া চুড়ান্ত করে।১২ অক্টোবর ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান গণ পরিষদে উত্থাপন করা হয় এবং ৪ নভেম্বর ১৯৭২(১৮ কার্তিক ১৩৭৯) তা গৃহীত হয়।প্রতি বছর ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস হিসেবে পালন করা হয়।১৫ ডিসেম্বর সংবিধানে স্বাক্ষর করা হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে তা কার্য়কর হয়।বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১টি প্রস্তাবনা,১১টি ভাগ,১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৭টি তফসিল রয়েছে।রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি ৪টি।এ পর্যন্ত সংবিধানে মোট ১৬ বার সংশোধনী আনা হয়েছে।৫ম তফসিলে জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ,৬ষ্ঠ তফসিলে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ৭ম তফসিলে মুজিবনগন সরকার কর্তৃক জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত হয়েছে।

নায়করাজ রাজ্জাক

নায়করাজ রাজ্জাক
নায়করাজ রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারী ভারতের দক্ষিণ কলকাতার টালিকঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতার নাম আকবর হোসেন ও মাতার নাম নিসারুন্নেসা।তার ডাকনাম ছিল রাজু, রাজা, রাজ্জাক ‘চিত্রালি’ সম্পদক আহমাদ জামান চৌধুরী তাকে নায়করাজ উপাধি দেন।তিনি ২ মার্চ ১৯৬২, বিবাহ করেন তার মোট ৫ সন্তান।কলকাতার হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার কারনে ১৯৬৪ সালে তিনি সপরিবারে বাংলাদেশে চলে আসেন।তার প্রথম অভিনীথ নাটক ‘বিদ্রোহী’।ঢালিউডে নায়ক হিসেবে তার প্রথম চলচিত্র জহির রায়হানের ‘বেহুলা’।তার অভিনীত শেষ সিনেমা ‘কার্তুজ’।তিনি বাংলা ও উর্দূ মিলে ৪০০ ও বেশী সিনেমায় অভিনয় করেছেন যার মধ্যে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন ৩০০ এর বেশী সিনেমাতে।পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।তার প্রযোজনা সংস্থা ‘রাজলক্ষী প্রডাকশন্স’।তিনি ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পুরষ্কার লাভ করেন। এছাড়াও জীবনে ৫ বার জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার লাভ করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

১৯৯১ সালে এতিমখানা করার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ১৯৯২ সালে কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে এতিমখানার নামে টাকা আসে যার ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় রমনা থানার অধীনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে জনাব তারেক রহমান সহ মোট ছয় জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়।মামলার আসামীরা হলো বেগম খালেদা জিয়া, জনাব তারেক রহমান,সলিমুল হক,শরফুদ্দীন আহমেদ এবং মমিনুর রহমান। ৫ আগস্ট ২০০৯ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ১৯ মার্চ ২০১৪ অভিযোগ গঠন করা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার অনাস্থার কারনে মোট ৫ বার বিচারক বদল করা হয়।৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ নিন্ম আদালতে এই মামলার রায় প্রদান করে তৎকালিন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার।এতে বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয় এবং অন্য আসামীদের ১০ বছরের কারাদণ্ড সহ প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়।ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড.আখতারুজ্জামান আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।এই রায়ের ফলে সংবিধানের ৬৬(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসামীরা বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।তবে আপিল বিভাগ মামলার কার্য়ক্রম স্থগিত বা বাতিল করলে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।রায়ের বিরুদ্ধে ২০ ফেব্রুয়ারী হাইকোর্টে আপিল করা হয়। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছিল।২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতায় তার সাজা সাময়িকভাবে মওকুফ করা হলেও,পরবর্তীতে তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে খালাস লাভ করেন এবং ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তামান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানসহ অন্যান্য আসামিদের এই মামলা থেকে খালাস দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি প্রতিহিংসামূলকভাবে দায়ের করা হয়েছিল।

Geographical Indication (GI)


Geographical Indication (GI)



Geographical Indication (GI)
GI-এর পূর্ণরূপ হলো Geographical Indication  যার বাংলা অর্থ হলো ‘ভৗগলিক নির্দেশক। GI পণ্য বলতে ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যকে বোঝায়। GI হলো এমন একটি নাম বা সাইন যা একটি নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য ব্যবহার করা হয়। যা কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকার পণ্যের পরিচিতি বহন করে। এতে পণ্যটি ঐ দেশের পন্য হিসেবে বিশ্ববাজারে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। মেধাসত্ব বিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা World Intellectual Property Organization(WIPO) সাধারণত ভৌগলিক নির্দেশক নিবন্ধন দেয়।WIPO এর সদর দপ্তর জে‌নেভা এবং এর বর্তমান সদস‌্য রাষ্ট্র ১৯৩‌টি। বাংলা‌দেশ ১৯৮৫ সা‌লে WIPO এর সদস‌্যপদ লাভ ক‌রে।বাংলাদেশে WIPO এর হয়ে স্থানীয় ভাবে কাজটি করে থাকে শিল্প মন্ত্রাণলায়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT).বাংলাদেশ ৬ নভেম্বর ২০১৩ ভৌগলিক নির্দেশক পন্য আইন করে ২ আগস্ট ২০১৫ বিধিমালা জারি করে। ২০১৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন(BSCIC) ঢাকাই জামদানি শাড়িকে  GI পণ্য হিসেবে অন্তর্ভূক্তির জন্য  DPDT তে আবেদন করে। ১৭ নভেম্বর ২০১৬, দেশের প্রথম GI পন্য হিসেবে ঢাকাই জামদানি শাড়ি স্বীকৃতি লাভ করে। ৬ আগস্ট ২০১৭, DPDT  জাতীয় মাছ ইলিশকে GI পণ্য হিসেব স্বীকৃতি দেয়।জামদানি ও ইলিশের পর ৩য় GI পন্য হিসেবে ২৭ জানুয়ারী ২০১৯  স্বীকৃতি পায় চাপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরসাপাতি আম। এ পর্যন্ত (জুন-২০২৬) স্বীকৃতি পাওয়া GI পন্য হলো-
 ১. জামদানি শাড়ি
২. বাংলাদেশ ইলিশ
৩. চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম
৪. বিজয়পুরের সাদামাটি
৫. দিনাজপুরের কাটারীভোগ চাল
৬. রাজশাহীর সিল্ক
৭. নাটোরের কাঁচা গোল্লা
৮. রংপুরের শতরঞ্জি

মেট্রোরেল


মেট্রোরেল

যানযটপূর্ণ নগরী ঢাকাকে যানযট মুক্ত করতে উত্তরা থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ ২৬ জুন ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের কাজ উদ্ভধোন করেন।এর দৈর্ঘ্য ২০.১০ কিলোমিটার বা ১২.৫ মাইল।প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড’।এর পরামর্শক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছে ‘দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশন’। এর অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকা।এ উপলক্ষ্যে ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৪ জাইকার সাথে সরকারের একটি চুক্তি হয়।চুক্তি অনুযায়ী মোট ব্যায়ের ৮৫ শতাংশ প্রদান করে জাইকা।এতে ২৪টি ট্রেন ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী বহণ করতে সক্ষম হবে।মোট স্টেশন সংখ্যা ১৬টি।ট্রেনগুলো সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে।পুরো কাজ তিনটি ধাপে শেষ হয়েছে।

পদ্মাসেতু


পদ্মাসেতু

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প। এটি মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরাকে যুক্ত করেছে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। এটি শুধু একটি সেতু নয়, বরং দেশের উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতার প্রতীক। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার দ্বিতল বিশিষ্ট এই সেতুর উচ্চতা ১৩.৬ মিটার।এর উপরের তলায় রয়েছে সড়কপথ আর নিচের তলায় রয়েছে রেলপথ।২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সেতুর মূল কাজের উদ্ভোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এর নির্মান কাজ পায় ‘চায়না মেজর ব্রিজ কনস্ট্রাকশন’।প্রায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার বিনময়ে ৮বছর (২০১৪-২০২২) পর  ২৫ জুন ২০২২ পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। ২০১৯ সালে প্রায় ১৭০ কিমি দীর্ঘ পদ্মা রেল প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ১০ অক্টোবর ২০২৩ ঢাকা–ভাঙ্গা অংশে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করা হয়। জানুয়ারী ২০১৮ সালে এর ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নং পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়।সেতুটির মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি এবং পাইল ২৫২টি এবং স্প্যান সংখ্যা ৪১টি। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ৩৬০০ টন ওজনের হ্যামার দিয়ে পাইল ড্রাইভ করা হয়েছে।পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ টি জেলাকে ঢাকার সাথে যুক্ত করেছে। দেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই প্রকল্প বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রকৌশল উদ্যোগ। পদ্মার মতো বিশাল ও প্রবল স্রোতের নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা ছিল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ, যা দক্ষ প্রকৌশল ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।এই সেতুর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। আগে ফেরির ওপর নির্ভর করতে হতো এবং অনেক সময় অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু এখন কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ শক্তিশালী করছে, পণ্য পরিবহন সহজ করছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। পদ্মা সেতুকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় নতুন শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পদ্মা সেতুর কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিত্র-

  • পদ্মা সেতু চালুর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।
  • সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের সময় অনেক কমেছে (আগের ফেরিনির্ভর দীর্ঘ অপেক্ষার পরিবর্তে দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে)।
  • পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধিতে প্রায় ১.২% পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
  • পণ্য পরিবহন দ্রুত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সময় ও পরিবহন খরচ কমছে
  • পদ্মা সেতু নির্মাণকাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
  • সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল এবং টোল আদায়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি হচ্ছে।
  • পদ্মা সেতু রেল সংযোগ চালু হওয়ায় রেলপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ হয়েছে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সহায়তা করছে।