জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা
১৯৯১
সালে এতিমখানা করার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ১৯৯২ সালে কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে
এতিমখানার নামে টাকা আসে যার ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করা
হয়।২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় রমনা থানার অধীনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম
খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে জনাব তারেক রহমান সহ মোট ছয় জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা
হয়।মামলার আসামীরা হলো বেগম খালেদা জিয়া, জনাব তারেক রহমান,সলিমুল হক,শরফুদ্দীন আহমেদ
এবং মমিনুর রহমান। ৫ আগস্ট ২০০৯ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ১৯ মার্চ ২০১৪ অভিযোগ
গঠন করা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার অনাস্থার কারনে মোট ৫ বার বিচারক বদল করা হয়।৮
ফেব্রুয়ারী ২০১৮ নিন্ম আদালতে এই মামলার রায় প্রদান করে তৎকালিন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার।এতে বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের
সশ্রম কারাদণ্ড হয় এবং অন্য আসামীদের ১০ বছরের কারাদণ্ড সহ প্রত্যেকের ২ কোটি ১০
লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়।ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত
বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড.আখতারুজ্জামান আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।এই
রায়ের ফলে সংবিধানের ৬৬(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসামীরা বাংলাদেশের নির্বাচনে
অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।তবে আপিল বিভাগ মামলার কার্য়ক্রম স্থগিত বা বাতিল করলে
তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।রায়ের বিরুদ্ধে ২০ ফেব্রুয়ারী হাইকোর্টে আপিল
করা হয়। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছিল।২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতায় তার সাজা সাময়িকভাবে মওকুফ করা হলেও,পরবর্তীতে তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে খালাস লাভ করেন এবং ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তামান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানসহ অন্যান্য আসামিদের এই মামলা থেকে খালাস দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি প্রতিহিংসামূলকভাবে দায়ের করা হয়েছিল।

No comments:
Post a Comment