পদ্মাসেতু
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প। এটি মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরাকে যুক্ত করেছে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। এটি শুধু একটি সেতু নয়, বরং দেশের উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতার প্রতীক। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০
মিটার দ্বিতল বিশিষ্ট এই সেতুর উচ্চতা ১৩.৬ মিটার।এর উপরের তলায় রয়েছে সড়কপথ আর
নিচের তলায় রয়েছে রেলপথ।২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সেতুর মূল কাজের উদ্ভোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এর নির্মান কাজ পায় ‘চায়না মেজর ব্রিজ কনস্ট্রাকশন’।প্রায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার বিনময়ে ৮বছর (২০১৪-২০২২) পর ২৫ জুন ২০২২ পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। ২০১৯ সালে প্রায় ১৭০ কিমি দীর্ঘ পদ্মা রেল প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ১০ অক্টোবর ২০২৩ ঢাকা–ভাঙ্গা অংশে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করা হয়। জানুয়ারী ২০১৮ সালে এর ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন
হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নং পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়।সেতুটির মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি এবং পাইল ২৫২টি এবং স্প্যান সংখ্যা ৪১টি। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ৩৬০০ টন ওজনের হ্যামার দিয়ে পাইল ড্রাইভ
করা হয়েছে।পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ টি জেলাকে ঢাকার
সাথে যুক্ত করেছে। দেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই প্রকল্প বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রকৌশল উদ্যোগ। পদ্মার মতো বিশাল ও প্রবল স্রোতের নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা ছিল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ, যা দক্ষ প্রকৌশল ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।এই সেতুর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। আগে ফেরির ওপর নির্ভর করতে হতো এবং অনেক সময় অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু এখন কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ শক্তিশালী করছে, পণ্য পরিবহন সহজ করছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। পদ্মা সেতুকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় নতুন শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment