চন্দ্রমুখী
এক গাঁ-এর এক কৃষকের মেয়ে, কুড়ায় বনের কাঠ
বাপে তাহার বর্গা জমিতে লাগাইয়াছে পাট।
চন্দ্রমুখী নামটা তাহার, চন্দ্রের মত রূপ
পাটের ক্ষেতে যাইয়া একদিন বাপেরে খুঁজিছে খুব
বাপে তাহার কাস্তে লইয়া কাটিতেছিল আগাছা
নিকটে গিয়া কহে তাহারে “বনেতে যাইব বাছা”
জননী তাহার ছিলনা বাঁচিয়া এই ভব সংসারে
একারনেই দেখিতে হইতো আপন সংসার তারে।
বলিয়া বাপেরে চন্দ্রমুখী বনেতে গেল চলিয়া
“সিকার ভিতর ভাত রয়েছে” বাপেরে গেল বলিয়া।
যাইয়া বনেতে, আপন মনেতে বনের কাঠ কুড়াইছে
মাথার উপর খরিশ গোখরা বাতাশেতে দুলিছে।
দুলিতেছিল মাথার উপরে চন্দ্র দেখেনি তারে,
না দেখিয়া চন্দ্র তাহারে দা’ দিয়া আঘাত করে।
চক্র তুলিয়া খরিশ গোখরা, রাঙাইয়া দুটি চোখ
অভাগী সেই চন্দ্রমুখীর কপালে মারিলো ঠোক।
জনশূন্য বনের মাঝে লুটাইয়া পড়িল মাটিতে
পাটের ক্ষেত দিয়া বাজান ফিরিল সন্ধ্যাতে।
বাড়িতে আসিয়া খুঁজিয়া যখন পাইলোনা আর তারে
বনের দিকে রওনা হলো, আরও খুঁজিল দ্বারে দ্বারে।
বনেতে গিয়া দেখিল চন্দ্র ঘুমায়ে আছে একা
সর্প বিষেতে চন্দ্রমুখ তার যায়না চেয়ে দেখা।
বনের পাখিরা ডাকিছে তখন কিচিরমিচির করে
‘ডাকিসনা তোরা, চন্দ্র ঘুমায়” বলিছে উচ্চ স্বরে।
দুচোখের জল করে টলমল বাহু বেয়ে পড়িছে
রাত্রি বাড়িছে চন্দ্রের বাপ, তার জাগার আসায় রয়েছে।
1 comment:
Nice
Post a Comment